দেশে ভালো রাজনৈতিক ব্যক্তি হয়ে উঠলে, দেশের শুধু বার্তাই বাজে না, তা বর্তমান পরিস্থিতি দেখলে বুঝাযায়, তাই ভালো মানুষ গড়ে তোলা দরকার।
👉শিক্ষকদের কেন রাজনীতি করা উচিৎ নয়
- নিরপেক্ষতা হারানো: রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে জড়িত থাকলে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষকের নিরপেক্ষতা প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে। শিক্ষার্থীরা মনে করতে পারে যে শিক্ষক একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক মতাদর্শ চাপিয়ে দিচ্ছেন।
- পেশাগত মনোযোগে ব্যাঘাত: রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে বেশি সময় দিলে তা শ্রেণিকক্ষে পাঠদান এবং শিক্ষার্থীদের প্রতি মনোযোগে বিঘ্ন ঘটাতে পারে, যা তাদের মূল দায়িত্ব।
- বিভাজন সৃষ্টি: রাজনীতি শিক্ষকদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করতে পারে, যা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
- শিক্ষার্থীদের ওপর প্রভাব: কম বয়সী শিক্ষার্থীরা শিক্ষকের রাজনৈতিক মতামতকে প্রশ্ন ছাড়াই সত্য হিসেবে গ্রহণ করতে পারে, যা তাদের নিজস্ব স্বাধীন চিন্তাভাবনার বিকাশে বাধা দিতে পারে।
সমাধান হিসেবে বিবেচিত হয় যা
অনেক ক্ষেত্রে এই সমস্যার সমাধান হিসেবে নিচের অবস্থানটি জনপ্রিয়:
- সক্রিয় পার্টি রাজনীতি পরিহার: বেশিরভাগ শিক্ষাবিদ মনে করেন যে, শিক্ষকদের দলীয় বা সক্রিয় নির্বাচনী রাজনীতি (Active Party Politics) থেকে দূরে থাকা উচিত।
- নীতিগত ও শিক্ষামূলক রাজনীতিতে অংশগ্রহণ: এর পরিবর্তে, তাদের উচিত শিক্ষাব্যবস্থা, মানবকল্যাণ এবং নাগরিক অধিকার নিয়ে আলোচনা বা নীতিগত রাজনীতিতে মনোযোগ দেওয়া। তারা শিক্ষক সমিতি বা পেশাজীবী সংগঠনের মাধ্যমে রাজনীতিতে অংশ নিতে পারেন।
- শ্রেণিকক্ষে নিরপেক্ষতা বজায় রাখা: শিক্ষককে অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে যে তার ব্যক্তিগত রাজনৈতিক বিশ্বাস যেন শ্রেণিকক্ষের আলোচনায় নিরপেক্ষতা লঙ্ঘন না করে।
নিশ্চিতভাবে। নিচে শিক্ষকদের রাজনীতি না করার পক্ষের বিভিন্ন যুক্তি, গবেষণা ও প্রেক্ষাপটসহ রেফারেন্স দেওয়া হলো:
শিক্ষকরা রাজনীতি না করাটা কেন যুক্তিযুক্ত — কিছু রেফারেন্স ও যুক্তি
১. শিক্ষার গুণগত মান ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে
গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি প্রতিবেদন বলে যে শিক্ষক রাজনীতির কারণে শিক্ষার্থীরা ভোগান্তিতে পড়ছে, ক্লাস শিক্ষা ও সময় বঞ্চনা হচ্ছে।
একটি একাডেমিক স্টাডি দেখায় যে রাজনৈতিক অংশগ্রহণ অনেক সময় শিক্ষককে তার মূল কর্মদায়িত্ব (শিক্ষাদান, গবেষণা) থেকে সরিয়ে দেয়।
২. নৈতীক দৃষ্টিকোণ থেকে সমস্যা
“শিক্ষকতা: পেশা নয়, নৈতিকতার প্রতিশ্রুতি” শীর্ষক সম্পাদকীয় যুক্তি দেয় যে শিক্ষকরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে রাজনীতির মাধ্যমে ব্যক্তিগত স্বার্থের উদ্দেশ্যে ব্যবহার করতে পারে, যা নৈতিকতার লঙ্ঘন।
“শিক্ষকদের রাজনীতি ও নৈতিকতা” নামে একটি আর্টিকেলে বলা হয়েছে, শিক্ষকরা ভবিষ্যতের নাগরিক গড়তে গুরুত্বপূর্ণ; তাদের রাজনৈতিক পক্ষপাত শিশু ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রভাব ফেলতে পারে।
৩. শিক্ষাঙ্গনে বিশ্বাস ও আস্থা নষ্ট হওয়া
একটি সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে, শিক্ষক রাজনীতি বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা নষ্ট করছে, কারণ অনেক শিক্ষক এখন দলে উৎসর্গী হয়ে গেলেন এবং তাদের রাজনৈতিক পরিচয় শ্রেণিকক্ষে আস্থা কমাতে পারে।
“উচ্চশিক্ষার ‘বাধা’ শিক্ষক রাজনীতি” শীর্ষক প্রতিবেদনে বিশেষজ্ঞরা মন্তব্য করেছেন যে, শ্রেণিকক্ষে রাজনৈতিক জটিলতা থাকলে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর মধ্যে আস্থার ক্ষতি হয়।
৪. বৈষমতার প্রসার
“শিক্ষক রাজনীতি ও শিক্ষাঙ্গনে বৈষম্য” শীর্ষক আর্টিকেলে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক পার্টির সঙ্গে যুক্ত শিক্ষকেরা নিয়োগ, পদোন্নতি বা সুযোগ-সুবিধায় পক্ষপাতাত্মক হতে পারে, যা শিক্ষাঙ্গনে অসমতা বাড়ায়।
৫. জনমত ও সমর্থন
ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অফ গভর্নেন্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (BI GD)–এর একটি জরিপের মাধ্যমে দেখা গেছে যে ৮৪% মানুষ শিক্ষক রাজনীতি নিষিদ্ধের পক্ষে মত দিয়েছেন।
এছাড়া, শিক্ষক রাজনীতির পক্ষেও এবং বিপক্ষেও সামাজিক ও নীতিগত বিতর্ক রয়েছে, যা নির্দেশ করে যে অনেকেই মনে করেন শিক্ষক-চাকরি ও রাজনৈতিক দায়িত্ব একসাথে পরিচালনা করা যায় না।
৬. গবেষণাগত সমালোচনা
এক গবেষণা (Education Policy Analysis Archives) দেখায়, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে শিক্ষক যুক্ত হওয়া শিক্ষক নিয়োগ এবং নির্বাচনে পক্ষপাত সৃষ্টি করতে পারে, যা শিক্ষা নীতির স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা কমাতে পারে।
আরেক গবেষণা (Universal Journal of Educational Research) পর্যন্ত বলেছে, শ্রেণিকক্ষে শিক্ষক তার নিজের রাজনৈতিক চিন্তা শিক্ষার্থীদের ওপর চাপাতে পারে, যা শিক্ষার্থীদের স্বাধীন চিন্তা ও মতামত গঠনে বাধা দাঁড়াতে পারে।
পরিশেষে বলা যায়, শিক্ষকরা যেন তাদের নাগরিক অধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, কিন্তু একই সাথে তাদের মূল লক্ষ্য—শিক্ষার্থীদের শিক্ষাদান—তা যেন কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেটাই কাম্য।

No comments:
Post a Comment