ভালো মানুষ হতে হলে কিছু কাজ এড়িয়ে চলা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এখানে সেই কাজগুলোর একটি তালিকা দেওয়া হলো:
ভালো মানুষ হতে যা যা করা উচিৎ না
১. অন্যদের প্রতি নেতিবাচক আচরণ
- মিথ্যা কথা বলা বা প্রতারণা করা: সততা হলো ভালো মানুষের ভিত্তি।
- অন্যের ক্ষতি করা বা আঘাত দেওয়া: শারীরিক বা মানসিক কোনোভাবেই কাউকে কষ্ট না দেওয়া।
- পরনিন্দা বা গীবত করা: অন্যের অনুপস্থিতিতে তার সম্পর্কে নেতিবাচক কথা বলা।
- অহংকার বা দাম্ভিকতা দেখানো: নিজেকে শ্রেষ্ঠ মনে করে অন্যদের ছোট করা।
- অন্যের অনুভূতিকে তুচ্ছ করা: সহানুভূতি ও সংবেদনশীলতা না দেখানো।
২. ব্যক্তিগত খারাপ অভ্যাস
- অনিয়ন্ত্রিত রাগ বা ক্ষোভ প্রকাশ করা: নিজের আবেগকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে না পারা।
- অবিচার বা বৈষম্য সৃষ্টি করা: পক্ষপাতিত্ব করা বা ন্যায্যতার বিরুদ্ধে কাজ করা।
- অলসতা বা দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়া: নিজের কাজ ও কর্তব্য পালনে উদাসীন থাকা।
- কৃতজ্ঞতা প্রকাশ না করা: অন্যের সাহায্য বা উপকারের জন্য ধন্যবাদ না জানানো।
- হিংসা বা ঈর্ষা করা: অন্যের সাফল্যে আনন্দিত না হয়ে দুঃখিত হওয়া।
৩. সমাজের প্রতি দায়িত্বহীনতা
- আইন ভঙ্গ করা বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা: সমাজের নিয়ম-কানুন না মেনে চলা।
- পরিবেশ দূষিত করা: পরিবেশের ক্ষতি হয় এমন কাজ করা।
- স্বার্থপর হওয়া: কেবল নিজের সুবিধা নিয়ে চিন্তা করা এবং অন্যদের উপেক্ষা করা।
- প্রতিজ্ঞা ভঙ্গ করা: কথা দিয়ে কথা না রাখা।
৪. রাজনীতিতে নিজেকে না জড়ানো
* ভালো রাজনীতি হলে জড়ানো যায়
গবেষণা অনুসারে ভালো মানুষ হতে যা যা করা উচিত নয়
মনোবিজ্ঞানীরা এবং সমাজ বিজ্ঞানীরা যে নেতিবাচক অভ্যাসগুলো এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেন, সেগুলোর মধ্যে প্রধান কয়েকটি নিচে তুলে ধরা হলো:
১. অহংকার বা গর্বের সঙ্গে "শিকারের ভূমিকা" নেওয়া (Playing the Victim)
গবেষণা কী বলে: ভালো মানুষ বা উচ্চ নৈতিক মূল্যবোধ সম্পন্ন ব্যক্তিরা কখনোই চ্যালেঞ্জ বা ব্যর্থতার জন্য অন্যের ওপর দোষ চাপান না বা নিজেকে সবসময় ভুক্তভোগী হিসেবে তুলে ধরেন না। মনোবিজ্ঞান অনুযায়ী, ক্রমাগত দোষারোপ ও অজুহাত তৈরি করা ব্যক্তিগত উন্নতিতে বাধা দেয় এবং অন্যদের থেকে সমর্থন দূরে সরিয়ে দেয়।
যা এড়াতে হবে: নিজের ভুলের জন্য অন্যকে দায়ী করা, অজুহাত দেখানো এবং সমস্যার দায়ভার না নেওয়া।
২. পরনিন্দা বা গালগল্পে (Gossiping) অংশ নেওয়া
গবেষণা কী বলে: পরনিন্দা বা গসিপ সমাজে অত্যন্ত ক্ষতিকর। এটি কেবল যার সম্পর্কে বলা হচ্ছে তার নয়, বরং যিনি বলছেন তারও খ্যাতি ও বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট করে। উচ্চ-মানের মানুষেরা গসিপ থেকে দূরে থাকেন, কারণ তারা জানেন যে এটি অন্যের সময় নষ্ট করে এবং নেতিবাচকতার জন্ম দেয়।
যা এড়াতে হবে: অন্যের অনুপস্থিতিতে তার সমালোচনা করা বা রটনা ছড়ানো।
৩. ক্রমাগত অন্যের থেকে স্বীকৃতি (Validation) চাওয়া
গবেষণা কী বলে: যদিও প্রশংসা পাওয়া স্বাভাবিক, কিন্তু নিজের আত্মসম্মান বা Self-Worth কে পুরোপুরি অন্যের অনুমোদনের উপর নির্ভরশীল করে তোলা ভালো মানুষের লক্ষণ নয়। মনোবিজ্ঞান অনুসারে, যারা সবসময় অন্যের স্বীকৃতি খোঁজেন, তারা প্রায়ই নিম্ন আত্মমর্যাদাবোধ এবং উদ্বেগ/হতাশায় ভোগেন।
যা এড়াতে হবে: নিজের কাজের মূল্যায়নের জন্য সবসময় অন্যের প্রশংসার ওপর নির্ভর করা বা অন্যের অনুমোদনের অভাবে মানসিকভাবে ভেঙে পড়া।
৪. বিচারপ্রবণ হওয়া বা দ্রুত সমালোচনা করা (Being Judgmental)
গবেষণা কী বলে: যারা খুব দ্রুত এবং কঠোরভাবে অন্যকে বিচার করেন, তারা সাধারণত কম সুখী এবং সুস্থতা (Well-being) অনুভব করেন। ভালো মানুষেরা অন্যকে বোঝার চেষ্টা করেন, সহানুভূতি দেখান এবং খোলামেলা মন (Open Mind) রাখেন। তারা মানুষের ভুলকে দ্রুত বড় করে দেখেন না।
যা এড়াতে হবে: অন্যের পরিস্থিতি না বুঝে বা তাদের সঙ্গে সহমর্মী না হয়ে দ্রুত নেতিবাচক রায় দেওয়া।
৫. ব্যক্তিগত বৃদ্ধি (Personal Growth) অবহেলা করা
গবেষণা কী বলে: ভালো মানুষ হওয়ার প্রক্রিয়াটি একটি আজীবন প্রচেষ্টা। গবেষণায় দেখা গেছে যে যারা ব্যক্তিগত বিকাশকে অবহেলা করেন, তারা একঘেয়েমি এবং স্থবিরতার শিকার হন। নৈতিকতা এবং মানসিক বুদ্ধিমত্তা (Emotional Intelligence) বৃদ্ধি করতে হলে নতুন কিছু শেখার এবং চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করার মানসিকতা থাকতে হবে।
যা এড়াতে হবে: পরিবর্তনের ভয় পাওয়া, শেখার সুযোগ এড়িয়ে যাওয়া এবং আরামের জায়গায় (Comfort Zone) আটকে থাকা।
৬. নিজের নেতিবাচক কথা বা চিন্তাভাবনা (Negative Self-Talk) করা
গবেষণা কী বলে: মনোবিজ্ঞান অনুসারে, নিজের সম্পর্কে নেতিবাচক কথা বলা মানসিক চাপ বাড়ায় এবং পরিস্থিতি সম্পর্কে আপনার ধারণাকে বিকৃত করে। নেতিবাচকতার প্রতি পক্ষপাতিত্ব (Negativity Bias) আমাদের খারাপ দিকগুলোর ওপর বেশি মনোযোগ দিতে উৎসাহিত করে, যা ভালো মানুষ হওয়ার পথে বাধা।
যা এড়াতে হবে: সবসময় নিজের খারাপ দিকগুলো নিয়ে ভাবা, নিজেকে দোষারোপ করা, এবং ছোট ভুলকে বড় করে দেখা।


No comments:
Post a Comment